সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যপণ্যে বেড়েছে

বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব পড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতির হিসাবে। বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। জুন মাসে এই হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে, যা প্রায় দুই অঙ্ক ছুঁই ছুঁই। এর আগে গত বছরের আগস্টে এ হার দাঁড়িয়েছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে। এরপর কমতে থাকে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার। এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর আগে মে মাসে মূল্যস্ফীতির এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তারও আগে ২০২২ সালের জুন মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ে যেমন খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গ্রাম ও শহর সর্বত্রই।

তবে সার্বিক মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সিপিআই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার সংস্থাটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায় জুন মাসে মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সোমবার যুগান্তরকে বলেন, মূল্যস্ফীতি হিসাবের প্রধান আইটেমই হচ্ছে চাল। কিন্তু নতুন করে চালের দাম বাড়েনি। তবে যে সময়টাতে বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় সে সময়টাতে চিনি ও পেঁয়াজের দাম ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই দামের প্রভাবটাই পড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে। তবে আশার কথা হলো সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে স্বস্তি ফিরে আসবে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয়ভাবে জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে, যা গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সামান্য কমেছে। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি জুনে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বিবিএস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তবে এই বৃদ্ধির হার মে মাসের তুলনায় জুনে কমেছে। এটাকে মূল্যস্ফীতি যে কমেছে সেটি সরাসরি বলা যায় না। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হয়েছে, তবে আগে যে হারে বেড়েছে সে হারে বাড়েনি।

এদিকে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে মজুরি হারের সূচকও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে জুন মাসে মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাতভিত্তিক মজুরি হারের চিত্র হলো, কৃষি খাতে জুন মাসে মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এ ছাড়া শিল্পে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৭ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং সেবা খাতে এই হার বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

পূর্বের খবরযে কারণে এখন থেকে পর্দায় চুমু খাবেন না প্রিয়ামণি
পরবর্তি খবরইউক্রেনে যে দুই স্থানে সব থেকে বেশি সেনা মোতায়েন করছে রাশিয়া