সাকিবই হতে পারেন সমাধান

বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সেনানী হয়ে বিশ্বকাপে গেছেন সাকিব আল হাসান। অথচ তাঁর কাছ থেকে এখনো প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও পায়নি দল। এবার বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ে আরো হতশ্রী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেন ৩ রান।

এমন পড়তি ফর্ম উদ্বেগ বাড়ালেও পরের দুই ম্যাচের তুরুপের তাস হতে পারেন সাকিব। তার একটিতে আজ রাতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেনের দল। ম্যাচটি সেন্ট লুসিয়ায়, এ জন্য আশার পালে হাওয়া পাচ্ছে বাংলাদেশ। সেন্ট ভিনসেন্টের কন্ডিশন বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।

এই মাঠের পরিসংখ্যানও স্পিনারদের পক্ষে কথা বলছে। এখানে যে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে, সেখানে ১৫৮ ও ১৩৫ রানের পুঁজি নিয়েও জয় পায় পাকিস্তান। দারুণ বোলিংয়ে বাঁহাতি স্পিনার জুলফিকার বাবর সিরিজসেরা হন।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনে অভিজ্ঞ সাকিব ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

সেই সম্ভাবনা আরো জোরালো হচ্ছে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং বিভাগের দিকে তাকালে। ডাচদের মূল একাদশের ১০ জনই যে ডানহাতি। অর্থাৎ ম্যাচ-আপও থাকবে সাকিবের পক্ষে। একই স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই দুই ম্যাচের কথা ভেবেই আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামকে ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন, ‘নেদারল্যান্ডসের বেশির ভাগই ডানহাতি ব্যাটার।অতীতের রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, ওরা বাঁহাতি স্পিনারের বলেই বেশি ঘায়েল হয়েছে।’

এদিকে আর্নোস ভ্যাল গ্রাউন্ডে এবারের বিশ্বকাপে তো বটেই, গত ১০ বছরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। সর্বশেষ ম্যাচটি খেলে বাংলাদেশ, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ সিপিএলের কোনো ম্যাচও হয়নি এই মাঠে। নাসাউ কাউন্টির মতো অনেকটা নতুন উইকেটে আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। সঙ্গে ম্যাচটি হবে স্থানীয় সময় সকালে। সব মিলিয়ে স্পিনারদের প্রভাব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিপক্ষ তো আর ছেড়ে কথা বলবে না। নেদারল্যান্ডস দলেও বেশ কয়েকজন মানসম্পন্ন স্পিনার আছেন। তা ছাড়া সুপার এইটে উঠতে বাংলাদেশ যেমন ডাচদের শিকার বানানোর অপেক্ষায়, তেমনি তাদের সামনেও একই সমীকরণ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে বাড়তি সাবধান হওয়া উচিত বলেও মনে হয়েছে গাজী আশরাফের, ‘নেদারল্যান্ডস ও নেপালের দিকে আমরা অনেক বেশি দৃষ্টি দিচ্ছি। সেটি সাবধানতা থেকেই। একটা সময় যখন দুর্বল দল ছিলাম, আমরা কিন্তু আমাদের চেয়ে একটু শক্তিশালী দলকেই টার্গেট করতাম। তা ছাড়া নেদারল্যান্ডস আমাদের অনেক সময়ই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। এবারও ফেলতে চাইবে।’

বাংলাদেশের বর্তমান বিশ্বকাপ স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহর। এই ম্যাচের আগে ওটিটি প্ল্যাটফরম বঙ্গর একটি প্রামাণ্যচিত্রে সাকিবকে বলতে শোনা যায়, ‘সেন্ট ভিনসেন্টে আমরা দুটি ম্যাচই জিততে পারব। পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে পারব।’ ভিডিওটি অবশ্য বিশ্বকাপের আগে রেকর্ড করা। তবে সব হিসাব বলছে, সাকিবের জন্য প্রস্তুত মঞ্চ। এবার তাঁর পারফর্ম করার পালা।

পূর্বের খবরজেলেনস্কির নিজ শহরে রুশ হামলা, নিহত ৯
পরবর্তি খবরতুফান’ নিয়ে নতুন অভিযোগ