শিখবে নাজমুলদের পরের প্রজন্ম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শেখার জায়গা নয়। গতকাল রাতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডের পথে উড়াল দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত শেখার জন্য বরং এনসিএল-বিসিএলের মতো আসরে খেলারই তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলোতে আবার তাঁর মতো ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ হয় না। ঠাঁসা আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততায় বিদেশের মাটিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার প্রস্তুতি তাহলে হবে কী করে! হবে, তবে এখন তিন সংস্করণই খেলা কোনো ক্রিকেটারের নয়।

প্রতিটি সংস্করণেই খেলা ক্রিকেটারদের শরীর বিশ্রামের দাবি জানিয়ে রাখে। সারা বছরের ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ থাকলেও দুটো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতার একটিতেও নাজমুলদের খেলার সম্ভাবনা সামান্যই। কিন্তু বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনিই না আশা প্রকাশ করেছিলেন বিসিবি তাঁদের ভালো উইকেটে খেলার ব্যবস্থা করে দেবে! নিজেরা না খেললে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তাহলে প্রস্তুত হবেন কী করে?

বাস্তবতা এমন যে নাজমুলদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে শেখার দুনিয়ায় দেখতে পাচ্ছেন না বিসিবির পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলী জাকি। তিনি বরং জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দক্ষতা ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে মেলে ধরার মধ্যেই সমাধান খুঁজতে চাইলেন, ‘আসলে জাতীয় দলের যারা, তাদের স্কিল তো আছেই।

এখন নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওদের খেলতে হবে। এমন নয় যে নতুন করে কিছু শিখতে হবে। যা জানে, মাঠে নেমে এর প্রয়োগটা শুধু ঠিকঠাক করলেই হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেদের প্রয়োগ করতে হবে, কমাতে হবে ভুল।

নিজে যেহেতু পেসারদের কোচ, জাকি তাই নিউজিল্যান্ডে মুস্তাফিজুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও হাসান মাহমুদদের সাফল্যের উপায় সুনির্দিষ্টভাবে বাতলে দিতে চাইলেন আগে, ‘নিউজিল্যান্ডের উইকেটের বাউন্স আমাদের তুলনায় অবশ্যই বেশি। কন্ডিশনও ভিন্ন। পেসারদের ওখানে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। দু-একজনকে বাদ দিলে এই দলের পেসারদের প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলা হয়ে গেছে। কাজেই ওরা জানে, এই পর্যায়ে সফল হতে গেলে কী করতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের উইকেটে লেন্থ শুধু একটু এদিক-ওদিক করতে হবে। খুব বেশি না। এই প্রক্রিয়া মেনে বোলিং করলে অবশ্যই ভালো করা সম্ভব। এর কোনো বিকল্প নেই।’ অধিনায়ক নাজমুলসহ জাতীয় দলের ব্যস্ত ক্রিকেটারদের তাই যার যার অভিজ্ঞতা থেকেই নিজেদের মেলে ধরতে হবে।

ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার শেখার ব্যাপারটি তাই আপাতত পরের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্যই তোলা দেখছেন জাকি, ‘আশার দিকও কিন্তু আছে। নতুন যারা শিখছে, ওদের ভুলের পরিমাণ কম হচ্ছে। এনসিএল ও বিসিএলে এবার কিন্তু আমরা ঘাসের উইেকটই পাচ্ছি। চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে ছেলেরা দারুণ উইকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছে। অসমান বাউন্স নেই। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এতে করে উপকৃত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম, ওরা শিখছে। উন্নতিও হচ্ছে।’

পূর্বের খবরআজও খেলা শুরু হতে দেরি, আপাতত বৃষ্টি নেই
পরবর্তি খবরএদের রাজনীতি করার অধিকার নেই : প্রধানমন্ত্রী