মুখোমুখি স্পেন-ফ্রান্স দুই চ্যাম্পিয়নের ফাইনালে ওঠার লড়াই

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ রাতে মাঠে নামছে সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও ফ্রান্স। জার্মানির মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ এরিনায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফেবারিট হিসেবে ভাবা হয়নি স্পেনকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে একর পর এক ম্যাচ জেতা স্পেনই এখন হট ফেবারিট। শুরু থেকে এপর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে তারা উঠে এসেছে সেমিফাইনালের মঞ্চে। গ্রুপ পর্বে তারা ইতালি, ক্রোয়েশিয়া ও আলবেনিয়াকে হারিয়ে পুর্ন নয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সেরা হয়েই শেষ ষোলতে ওঠে। এরপর শেষ ষোলতে জর্জিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জার্মানিকে বিদায় করে দেয় স্প্যানিশরা।

নিশ্চিতভাবে এখন পর্যন্ত আসরের সেরা দল স্পেন। একের পর এক ম্যাচে দারুণ আগ্রাসী ও কার্যকর ফুটবল উপহার দিয়ে চলেছে তারা। ৫ ম্যাচে ১১ গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেছে মাত্র ২টি যার একটি ছিলো আত্মঘাতী। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষেই কঠিনতম পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় স্প্যানিশদের। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটি ২-১ গোলে জেতে লা ফুয়েন্তের দল। এই দলটি নিয়েই বেশ আশাবাদি দলের কোচ। দলের প্রতিটি পজিশনই একেবারে গোছালো। বিশেষ করে আক্রমন ভাগে দুর্দান্ত খেলছে পেদ্রি, মোরাতা, উইলিয়ামস ও ইয়ামাল। তাদের পেছনে থেকে আক্রমনে সহায়তা করছে রদ্রি ও প্যাবিয়ান রুইজ।

স্পেনের রক্ষণভাগও যেনো চীনের প্রাচীরের মত। কারবাহাল, নরমান্দ, লাপোর্তে আর কুকুরেইয়ারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে সিদ্ধহস্ত। এছাড়া লা ফুয়েন্তের রিজার্ভ বেঞ্চও তারকায় ঠাসা। এ তালিকায় আছে নাচো, ওলমো, ফ্যাবিয়ান তোরেস ও পেরেজের মত পরিক্ষিত ফুটবলাররা যারা যার যার পজিশনে সেরা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেইয়া বলেন,‘আমরা যেভাবে খেলি এবং আমাদের যেসব খেলোয়াড় আছে, তাতে ফুটবল বিশ্বে স্পেনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে সম্ভবত এবারের ইউরোয় ফেভারিট হিসেবে না আসাটা আমাদের সাহায্য করেছে।’ তিনি যোগ করেন,‘আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করেছিলাম, আমাদের হারানোর কিছু নেই। এখন সেই আত্নবিশ্বাস বেড়েছে এবং আমরা টুর্নামেন্টের মূল মুহূর্তে আছি।’ এপর্যন্ত সব আসর মিলিয়ে মোট ৩৬ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। স্পেনের ১৬ জয়ের বিপরিতে ফ্রান্সের জয় ১৩টি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ২০১২ সালে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল স্পেন।

অন্যদিকে এবারের ইউরোতে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মন ভরাতে পারেনি ফ্রান্স। দলের মুল ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও আহামরি কিছু করে দেখাতে পারেননি। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল মাত্র একটি গোল করেছে ফরাসিরা। পেনাল্টি থেকে সেই একমাত্র গোলটি করেন এমবাপ্পে। তারপরও শেষ চারে উঠে গেছে তারা। কিন্তু পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করতে পারেনি ফুটবলপ্রেমীদের। এত কিছুর পরও এমবাপ্পের ওপর ভরসা রাখছেন দলের কোচ দিদিয়ের দেশম। ফরাসি কোচ বলেন, ‘২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফুটবলে এরই মধ্যে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছেন। আপনি কি মনে করেন না এতদিন পর্যন্ত সে যা করেছে, তা দিয়ে এরই মধ্যে যথেষ্ট ইতিহাস গড়েছে? এমনকি সে আরও ইতিহাস তৈরি করতে চায়।’ ২০০০ সালে শেষবার ইউরোর শিরোপা জিতেছিলো ফ্রান্স। এবার এমবাপ্পের হাত ধরে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় ফরাসিরা। আর সেটা করতে এখন তাদের টপকাতে হবে স্পেন বাধা।

পূর্বের খবরবিজিএমইএ দপ্তরে চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা
পরবর্তি খবরকোনো ব্যারিকেড নয়, সবার জন্য ওপেন আমার দরজা সাংবাদিকদের বললেন নতুন সিএমপি কমিশনার