মির্জা ফখরুলের গ্রেফতার নিয়ে বিবিসির রিপোর্টে যা বলা হলো

ঢাকায় সরকারবিরোধী মহাসমাবেশ চলাকালে সহিংসতার পর বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় কয়েক ডজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাতে তাকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদালত। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে শনিবার মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। এতে কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হন। একপর্যায়ে সহিংসতায় একজন পুলিশ সদস্য ও একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। বিবিসিতে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক অলিভার স্লো।

তিনি আরও লিখেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে (৭৫) গ্রেফতারের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট আছে। স্থানীয় মিডিয়ার মতে, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার দায়ে তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, শনিবারের বিক্ষোভে একজন পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে তিনি ও বিএনপির ১৬৪ সদস্যের বিরুদ্ধে।

পুলিশের দাবি, তাদের একজন সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। রোববারও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। এতে কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার এবং দুর্নীতির অভিযোগে ৫ বছরের জেল দেওয়ায় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করছে বিএনপি। গত এক সপ্তাহে দলটির প্রায় ৩০০০ নেতাকর্মী, সমর্থককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র জহিরউদ্দিন স্বপন।

অন্যদিকে ঢাকার পুলিশ বলেছে, ২১ অক্টোবর থেকে সহিংসতার অভিযোগে বিরোধীদলীয় কমপক্ষে ১৪৮০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে শনিবারের ঘটনায় আটক প্রায় ৭০০ জন।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায়। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তবে তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন পরস্পরবিরোধী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। তারা দুজনেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পূর্বের খবরহোলি আর্টিজান হামলা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড
পরবর্তি খবরত্রাণবাহী ৩৩ ট্রাক ঢুকল গাজায়