বেনজীর ও পরিবারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে নেমে গলদঘর্ম দুদক

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের হিসাব মেলাতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বেনজীরের অবৈধ সম্পদের পাল্লা দিন দিন ভারীই হচ্ছে। বেরিয়ে আসছে সম্পদের নতুন নতুন তথ্য। আর এই হিসাব মেলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে কমিশনের অনুসন্ধানদল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বেনজীর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের হিসাব মেলাতে অনুসন্ধানদলের প্রত্যেক সদস্যকে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কাজের পরিধির ব্যাপকতায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারও অনুসন্ধানদলের সদস্যরা কাজ করছেন। অনুসন্ধানদলের রীতিমতো ঘাম ঝরছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পর্যন্ত তিন দফা বেনজীর পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তিন দফায় আদালতের আদেশে জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬৯৮ বিঘা জমি, গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, রূপগঞ্জে ১০ কোটি টাকা মূল্যের বাংলো, উত্তরায় সাততলা বাড়ি, আদাবর-বাড্ডায় আটটি ফ্ল্যাট, সাভারে জমি, বিভিন্ন এলাকায় মাছ ও গরুর খামার, টেলিভিশন চ্যানেল, গার্মেন্টস ও ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, ২৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট), চারটি ক্রেডিট কার্ড ও ৯টি বিও অ্যাকাউন্ট এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।

দুদক সূত্র জানায়, আদালতের আদেশের মাধ্যমে এরই মধ্যে বেনজীর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদগুলো পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। বেনজীর এসব সম্পদ বিক্রি করতে পারবেন না। ক্ষমতায় থাকাকালে আলাদীনের আশ্চর্য চেরাগের স্পর্শে গড়ে তোলা বেনজীরের বিশাল সাম্রাজ্য কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল।

বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী তাঁর চাকরির মাধ্যমে এত সম্পদ উপার্জন করতে পারেন না। দোষী সাব্যস্ত হলে বিভিন্ন আইনে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হবে সদ্য সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের।

পূর্বের খবরঅর্থ আত্মসাৎ ও পাচার: ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু
পরবর্তি খবরজেলেনস্কির নিজ শহরে রুশ হামলা, নিহত ৯