বায়ুদূষণ ও শিশুর ফুসফুসের সমস্যা

দূষিত বায়ুর কারণে শিশুরা ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। যেমন হাঁপানি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী এমফাইসিমা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যানসার। এসব সমস্যা ও এগুলোর প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

শিশু বয়সের হাঁপানি

বাতাসে থাকা নানা রকম উত্তেজক পদার্থ, যেমন সিগারেটের ধোঁয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র বায়ুনালির অভ্যন্তরের দেয়ালে প্রদাহ সৃষ্টি করে, কোষের স্ফীতি ঘটায় ও মাংসপেশি সংকুচিত করে। এতে বায়ুথলি থেকে বাতাস নির্গত হতে পারে না। ফুসফুসে শোঁ শোঁ আওয়াজ হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়; যা কখনো কখনো তীব্র হলে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে।

ব্রঙ্কিওলাইটিস

এটি শ্বাসপ্রশ্বাসতন্ত্রের অতি সরু শাখা-প্রশাখা ব্রঙ্কিওলসের প্রদাহজনিত অসুখ। সাধারণভাবে নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুর ক্ষেত্রে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও বুকে শোঁ শোঁ শব্দের উপসর্গ নিয়ে এটি প্রকাশ পায়। এ রোগ সচরাচর শীতকালে নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের সংক্রমণে হয়।

দীর্ঘস্থায়ী এমফাইসিমা

এমফাইসিমা সাধারণত ঘরে কোনো ধূমপায়ীর মাধ্যমে শিশুর হওয়া পরোক্ষ ধূমপানজনিত দীর্ঘকালের অসুখ। এ রোগে ফুসফুসে অতিরিক্ত মিউকাস উৎপন্ন হওয়ায় বায়ুথলিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটে ও রক্তে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।

ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস

ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস প্রধানত বয়ঃসন্ধিকালের অসুখ। এতে শ্বাসনালির প্রদাহজনিত অতিরিক্ত শ্লেষ্মা উৎপন্ন হয়। এর প্রধান কারণ ধূমপান। অনবরত কষ্টকর কাশি এ রোগের প্রধান উপসর্গ।

সর্দি-কাশি

শ্বাসতন্ত্রের সর্বাধিক দেখা দেওয়া অসুখ সর্দি–কাশি; যা দুই শর বেশি ভাইরাসের মাধ্যমে হতে পারে। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে সাধারণ মাত্রার জ্বর, কাশি, শিরঃপীড়া, নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, হাঁচি ও গলাব্যথা।

কাশি

মৃদু থেকে মারাত্মক অসুখে কাশির উপসর্গ থাকতে পারে। যেমন সাধারণ সর্দি-কাশি, অ্যাজমা, সাইনোসাইটিস, বিভিন্ন ঋতুতে দেখা যাওয়া অ্যালার্জি, ক্রুপ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ও হুপিং কাশি।

নিউমোনিয়া

নিউমোনিয়া হলো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত ফুসফুসের প্রদাহ। এ অসুখে জ্বর ছাড়াও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। ফুসফুস রক্তে অক্সিজেন জোগান দিতে ও কার্বন ডাই–অক্সাইড নির্গমনে অক্ষম হয়ে পড়ে।

ফুসফুসের ক্যানসার

ধূমপান ও র‌্যাডন গ্যাসের ব্যবহারে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত, বুকব্যথা, গলাভাঙা বা কর্কশ স্বর, জ্বর, শ্বাসকষ্ট এর মূল উপসর্গ।

নবজাতক শিশুর শ্বাসরোগ

ঘরে ধোঁয়া, ধূমপানের পরোক্ষ প্রভাবে নবজাতকের ফুসফুস ও বায়ুথলি চুপসে যায়। ফলে শিশু শ্বাস নিতে পারে না। নবজাতক শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও নীল হওয়ার লক্ষণাদি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রতিরোধ

শিশুকে সময়মতো ও নিয়মিত টিকাদান, দূষিত পরিবেশ ও বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষা, ধূমপানের সংসর্গ পরিহার এবং শিশুর নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ।

পূর্বের খবরমাহির সঙ্গে যেভাবে রাকিবের প্রেম হয়েছিল
পরবর্তি খবরনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে সায়েদুল হকের জিডি