ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খোলার হুশিয়ারি ইরানের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দখলদার বাহিনীর নৃশংস অভিযানে সেখানে ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। গোটা বিশ্বের আহ্বান উপেক্ষা করে বেসামরিক লোকদের ওপর নির্বিচারে সমন্বিত (জল, স্থল ও আকাশ পথ) হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

এ অবস্থায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খোলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর এলিট শাখা ইরান’স রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসিন রেজায়ি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

খোদ ইসরাইলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সমর্থিত আল মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে রোববার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ইরানি কমান্ডার।

রেজায়ি বলেন, ‘জায়নবাদবিরোধী নতুন যুদ্ধফ্রন্ট বা পক্ষ গড়ে তোলার ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন আছে। সামনের দিনের যুদ্ধে সেই ফ্রন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সেই যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই বিশ্ব থেকে বিদায় নেবে জায়নবাদী শক্তি।’

সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজায়ি বলেন, তিনি মনে করেন যে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

রেজায়ি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আরও বেশ কিছুদিন চলবে। ইসরাইল চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। গাজায় তারা যত অগ্রসর হবে— ততই ডুববে। নেতানিয়াহুর (ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী) পতনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই যুদ্ধ।’

এর আগে গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরাইলের অভ্যন্তরে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। তাদের দাবি, পবিত্র আল আকসা মসজিদ নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয়।

হামাসের হামলার জবাবে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। ১৬ অক্টোবর থেকে তাতে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। সেই অভিযান এখনও চলছে।

হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরাইলে ১৪০০ লোক নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

পূর্বের খবরআ.লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন মাশরাফি
পরবর্তি খবরবৈদেশিক অর্থব্যয় কমার শঙ্কা