দুই সহোদরকে হত্যা : পদ হারালেন চেয়ারম্যান-মেম্বার

ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামে দুই নির্মাণ শ্রমিককে (দুই ভাই) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান তপন ও মেম্বার অজিত কুমার বিশ্বাসকে অপসরণ করা হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এদিকে ঘটনার ৮১ দিন (১৮/০৪/২৪) পার হলেও এখনো অভিযুক্ত ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান তপন কিংবা ইউপি সদস্য অজিত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন জানান, হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা ও মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে আটজনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় চারজন ও হত্যা মামলায় সাতজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই জনপ্রতিনিধি মন্দিরে আগুন লাগানোর জন্য শ্রমিকদের দায়ী করে স্বীকারোক্তি আদায় করতে কিল-ঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারেন।

এর আগে ২০২৩ সালে দুই দফা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর হামলার মামলা ও টিসিবির কার্ড আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বরখাস্ত হন ডুমাইন ইউপির চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান। তবে দুবারই তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে পদ ফিরে পান। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছিল।

রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামে গত ১৮ এপ্রিল দুই নির্মাণ শ্রমিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(খ)(ঘ) ধারা অনুযায়ী ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের কারনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান ও মেম্বার অজিত কুমারের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। একারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) (খ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে স্বীয় পদ হতে অপসারণ করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৫ (১)(২) ধারা অনুযায়ী পদটি শূন্য ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুখালীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহ আসাদুজ্জামান ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১২ সালে প্রথমবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খোরশেদ আলমকে পরাজিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যান হন। শ্রমিকদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তিনটি ভিডিও ক্লিপ গত ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যা ঘটেছিল সেদিন : ১৮ এপ্রিল রাতে পঞ্চপল্লী মন্দিরের প্রতিমার শাড়িতে আগুন দেওয়া এবং সন্দেহের বশে পাশের পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণে নিয়োজিত চার নির্মাণশ্রমিককে একটি কক্ষে আটকে পিটুনি দেওয়া হয়। এতে আশরাফুল ও আসাদুল নামের দুই সহোদর মারা যান। নির্মাণশ্রমিকদের পিটুনিতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামান, সদস্য অজিত বিশ্বাস ও অমৃত কুমার বসু নামের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পায় তদন্ত কমিটি। এই ঘটনায় মধুখালী থানায় তিনটি মামলা হয়।

পূর্বের খবরযুক্তরাজ্যের নির্বাচনে পাকিস্তানি ও কাশ্মিরি প্রার্থীদের জয়জয়কার
পরবর্তি খবর৩০ অক্টোবরের মধ্যে ফাইভ-জি সেবা চালুর নির্দেশ