গরুর সাথে এসি-মোটরসাইকেল ফ্রি

মাত্র একটি গরু কিনলেই এসি ও মোটরসাইকেল ফ্রি। এমন লোভনীয় অফার দিয়েই গরু দাম হাঁকাচ্ছেন দুই খামারি। তাদের ঘরে পালা দুই গরুর একটি মহারাজ এবং অন্যটি ভাগ্যরাজ। তাদের দেখতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এলাকাবাসী।

উঠানে আসতেই রাজকীয় আওয়াজে নিজের জানান দিচ্ছে ৬ ফুট উচ্চতা ও ১৪ ফুট লম্বা কালো মহারাজ। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণে যেন রাজকীয় হুংকার। গোয়ালঘর থেকে মহারাজকে বের করতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয় গৃহকর্তা জীবন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী মাধবী লতাকে। কোরবানির বাজারে এরই মধ্যে নাম ছড়িয়ে পড়েছে ৩০ মণ ওজনের মহারাজের নাম।

অন্যদিকে, কৃষক মোফাজ্জল হোসেন তার গোয়ালে দেশি পদ্ধতিতে লালন করেছেন ৪০ মণ ওজনের ভাগ্যরাজকে। জন্মের পর নিজের মায়ের পাশাপাশি একই গোয়ালে থাকা আরও চারটি গাভীর দুধ খেয়ে বড় হয়েছে ভাগ্যবান। এ কারণেই ষাঁড়টির এমন নাম রেখেছেন তার মালিক।

মহারাজের ২০ লাখ ও ভাগ্যরাজের দাম ২৫ লাখ হাঁকাচ্ছেন তাদের দুই মালিক। ক্রেতাকে এসি ও মোটরসাইকেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।ভাগ্যরাজের মালিক মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ষাঁড়টিকে যদি কেউ ২৫ লাখ টাকা দিয়ে কেনে তাহলে তিনি তাকে শোরুমে থেকে নতুন পালসার মোটরসাইকেল কিনে দেবেন।

মহারাজের মালিক মাধবী লতা বলেন, এটি ফ্রিজিয়ান গরু। এর বয়স প্রায় ৩ বছর। ষাঁড়টি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাচ্ছি। যদি কেউ এ দামে মহারাজকে কিনতে চায় তাহলে তাকে এসি পুরস্কার দেওয়া হবে।

বিশালাকার মহারাজ ও ভাগ্যরাজকে নিয়ে দুই গ্রামীণ খামারি জীবন বিশ্বাস ও মোফাজ্জল হোসেন পুরস্কার বা অফারের যেন এক রকম প্রতিযোগীতায় নেমেছেন।

মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস জানান, আশা করা যায় গরু দুটি অনেক দামে বিক্রি হবে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের অনেক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য খামারিরা যাতে উৎসাহ হয় আমরা সে ব্যাপারেও কাজ করে যাচ্ছি।

কোরবানিকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে দানাদার খাবারের বিপরীতে খামারির নিজস্ব জমিতে উৎপাদন হচ্ছে নেপিয়ার ও পাকচং জাতের ঘাস। ডালজাতীয় ভুসি খাবারের মাধ্যমে এ ধরনের গরু মোটাতাজাকরণ কৃষকের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

পূর্বের খবরবাজেট সাধারণ মানুষের ওপর আরো বোঝা চাপাবে: ফখরুল
পরবর্তি খবরকঙ্গনার গালে থাপ্পড় নিরাপত্তাকর্মীর, দেশজুড়ে তোলপাড়