ইভিএম, ব্যালট নয় দাবি নিরপেক্ষ সরকার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম না ব্যালট পেপারে হবে, তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর। তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। নির্বাচন যে পদ্ধতিতেই হোক, এ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ভোট হবে কাগজের ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে-নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর সোমবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতারা এসব কথা বলেন।

তারা আরও বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স থাকবে খুশির কথা; কিন্তু ব্যবহার করা হবে কখন-এই দুশ্চিন্তা আমাদের মাথায় থেকে যায়নি। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

রাজধানীর লেডিস ক্লাবে রাজনীতিবিদদের সৌজন্যে ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ (গতকাল) নির্বাচন কমিশন বলেছে, ইভিএম নয়, জাতীয় নির্বাচন হবে ব্যালটে। এ বিষয়ে আমাদের এতটুকুও আগ্রহ নেই। নির্বাচনের সময় কোন সরকার থাকবে, সেটি হলো জাতীয় সংকট। এটাই প্রধান সংকট। আমরা অনেক রাজনৈতিক দল একমত হয়েছি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাব না। সংসদ বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ওই সরকার ও ইসির অধীনে নির্বাচন হবে। এর বাইরে কিছু গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের গণতান্ত্রীকামী মানুষ, সংগঠন, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকরা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে আজ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজ করছে।

নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মহাসচিব বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে বিভিন্ন ধরনের নাটক ও প্রহসন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে।

প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানের আটকের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে। শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, নির্যাতন করছে। এখন দেশে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধোয়া তুলে জনগণেকে বোকা বানিয়ে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। দুর্নীতি এমন অবস্থায় গেছে, দেশের বাইরের পত্রিকায়ও খবর আসছে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের সবাই প্রথম থেকে ইভিএমের কারচুপির মেশিন সম্পর্কে আপত্তি জানিয়ে আসছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফল ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র করবে। আমরা যারা বিরোধী দলে, তারা এ বিষয়ে সজাগ আছি।

১২ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যুগান্তরকে বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কামনায় অনেকগুলো দাবি করেছি। এর মধ্যে একটি হলো ব্যালট বাক্সে নির্বাচন। আরেকটি হলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন। এখন নির্বাচন কমিশন ব্যালট বাক্সে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশ্বাস করি, তারা বাকিগুলোও পূরণে সহায়তা করবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, ব্যালট বাক্স ২০১৮ সালেও ছিল। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে রাতের বেলায়। এখন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স থাকবে খুশির কথা; কিন্তু ব্যবহার করা হবে কখন-এই দুশ্চিন্তা আমাদের মাথা থেকে যায়নি। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটা অবাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার এগোনোর চেষ্টা করছে। ইভিএম ব্যবস্থা বাতিল করা তাদের সেই ভুলটা স্পষ্ট করে দিল। আমরা এ সম্পর্কে আগে থেকেই বলে আসছিলাম। আমাদের কথাই ঠিক প্রমাণিত হয়েছে। সরকার সবাইকে প্রতিপক্ষ মনে না করে এটা ভাবতে শুরু করুক যে তাদেরও ভুল হয়। তারা পরাজিত হয়েছে।

পূর্বের খবরভাড়া নৈরাজ্য রোধে মাঠে বিশেষ সেল
পরবর্তি খবরসাবেক স্বামীর নতুন প্রেম নিয়ে যা বললেন সামান্থা